প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Voice of Chittagong
Voice of Chittagong কৈলাস বিলাস, মোমিন রোড়, চেরাগী পাহাড়, চট্টগ্রাম।
ফোনঃ +880 1823-605363 | ই-মেইলঃ admin@voiceofchittagong.com
রাজনীতি

বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক ত্রুটি, ‘স্যাবোটাজ’ কি না প্রশ্ন রিজভীর

দেশের শক্তি খাতে চলমান একের পর এক কারিগরি ত্রুটি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চ্যালেঞ্জ করে জান
প্রতিবেদক: Voice of Chittagong প্রকাশ: Sep 12, 2026 প্রিন্ট: 06 Nov 2026, 05:42 AM
বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক ত্রুটি, ‘স্যাবোটাজ’ কি না প্রশ্ন রিজভীর

দেশের শক্তি খাতে চলমান একের পর এক কারিগরি ত্রুটি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছেন, এই ত্রুটিগুলো কি না কার্যকরভাবে ‘স্যাবোটাজ’ বা ভাঙনমূলক কার্যকলাপের ফল। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হঠাৎ করেই ঘন ঘন ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জনগণের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব পড়ছে এবং এটি কেবল একটি আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। রিজভী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন না করা এবং স্বচ্ছ তদন্ত না চালানো জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশের শক্তি অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব, যা তারা বর্তমানে পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এই বিষয়ের নেপথ্যে রয়েছে দেশের শক্তি খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের ইতিহাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাব এবং কারিগরি দক্ষতার ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাসের প্রধান কারণ। তবে বিরোধী দলের দাবি, এই কারিগরি ত্রুটিগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাঙনমূলক কার্যকলাপের আশঙ্কা রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় এই ধরনের ত্রুটিগুলো জোর করে সৃষ্টি করা হয় যাতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করা যায় এবং সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। এই পটভূমিতে বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারাও সতর্ক হয়ে পড়েছেন, যদিও তারা সরাসরি স্যাবোটাজের অভিযোগ অস্বীকার করে কারিগরি সমস্যার কথা বললেও, জনগণের মধ্যে এই বিষয়ে সন্দেহের মেঘলাই ঘন হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রিজভীসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারা দাবি করেছেন, সরকারকে অবশ্যই স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে এই ত্রুটিগুলোর মূল কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। জনজীবনে এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর, যেহেতু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ থাকছে, যা রপ্তানি আয় হ্রাস এবং কর্মসংস্থান হ্রাসের দিকে ঝুঁকছে। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এই অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে বহুগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষও দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা প্রাপ্ত হচ্ছেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক চক্রকে ধীরগতির করে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে জনগণের মধ্যে সরকারের শক্তি নীতি নিয়ে প্রশ্নের চোখে দেখা দেওয়া শুরু হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপ হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা সব ধরনের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানের কাজ করছেন এবং গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে বিরোধী পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে শক্তি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, দেশের শক্তি অবকাঠামো আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়া উচিত। যদিও সরকার স্যাবোটাজের অভিযোগ অস্বীকার করছে, তবুও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য স্বচ্ছ তদন্ত ও কার্যকরী সমাধান প্রণয়ন করা অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তবে এর কার্যকরিতা সময়ই বলবে।

© 2026 Voice of Chittagong. All rights reserved.