প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Voice of Chittagong
Voice of Chittagong কৈলাস বিলাস, মোমিন রোড়, চেরাগী পাহাড়, চট্টগ্রাম।
ফোনঃ +880 1823-605363 | ই-মেইলঃ admin@voiceofchittagong.com
জাতীয়

দোয়েল কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হলো

বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েল (মোরি) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হওয়ার ঘোষণাটি ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ জাতীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্র
প্রতিবেদক: Voice of Chittagong প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 06 Nov 2026, 07:40 AM
দোয়েল কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হলো

বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েল (মোরি) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হওয়ার ঘোষণাটি ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ জাতীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রধান কর্মকর্তা ঘোষণায় উল্লেখ করেন, দোয়েল দেশের গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, কৃষিকাজে পোকা‑মাকড়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তার স্বতন্ত্র নীল‑কমলা রঙের পালক জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দোয়েলকে জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছে।

দোয়েলকে জাতীয় পাখি হিসেবে নির্বাচন করার পেছনে দীর্ঘকালীন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। পূর্বে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতি নির্ধারিত ছিল না; তবে ১৯৯০‑এর দশকে বিভিন্ন পাখি প্রজাতির মধ্যে দোয়েলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দোয়েল বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে সর্বদা দেখা যায়, তার গীতিময় কূজন ও উড়ানের নান্দনিকতা লোককথা ও শিল্পে প্রায়শই প্রতিফলিত হয়েছে। সরকার ২০১৯ সালে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে পাখি প্রজাতির সংরক্ষণ, পরিবেশগত গুরুত্ব এবং জাতীয় চিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করে দোয়েলকে অগ্রাধিকার দেয়।

ঘোষণার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্যণীয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বলেন, দোয়েল আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই তাকে জাতীয় পাখি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ornithology সমিতির সভাপতি উল্লেখ করেন, দোয়েল পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ, তার সংরক্ষণে তৎপরতা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষও সামাজিক মাধ্যমে দোয়েলকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দোয়েলকে থিম করে পোস্টার ও সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।

জাতীয় পাখি ঘোষণার পর থেকে সরকার দোয়েল সংরক্ষণের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় দোয়েল বাসস্থান রক্ষা করতে নতুন পাখি সংরক্ষণ অঞ্চল নির্ধারণের পরিকল্পনা চালু করেছে এবং কৃষি ক্ষেত্রের পesticide ব্যবহার কমাতে নির্দেশিকা জারি করেছে। পাশাপাশি, শিক্ষাব্যবস্থায় দোয়েল বিষয়ক পাঠ্যসূচি যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সংরক্ষণ সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। সরকার আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে দোয়েল গবেষণা প্রকল্প চালু করেছে, যা দোয়েলের জনসংখ্যা পর্যবেক্ষণ ও বাসস্থান পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।

© 2026 Voice of Chittagong. All rights reserved.