প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Voice of Chittagong
Voice of Chittagong কৈলাস বিলাস, মোমিন রোড়, চেরাগী পাহাড়, চট্টগ্রাম।
ফোনঃ +880 1823-605363 | ই-মেইলঃ admin@voiceofchittagong.com
সারাদেশ

জগদীশপুরের প্রাচীন তেঁতুলগাছ: নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিচারণে ৯২ বছর বয়সী বৃদ্ধের মন

জগদীশপুর গ্রামের এক প্রাচীন তেঁতুলগাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ৯২ বছর বয়সী সরোয়ার হাওলাদার। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই গাছটি কেবল একটি বৃক্ষ নয়, বরং এট
প্রতিবেদক: Voice of Chittagong প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 06 Nov 2026, 09:32 AM
জগদীশপুরের প্রাচীন তেঁতুলগাছ: নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিচারণে ৯২ বছর বয়সী বৃদ্ধের মন

জগদীশপুর গ্রামের এক প্রাচীন তেঁতুলগাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ৯২ বছর বয়সী সরোয়ার হাওলাদার। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই গাছটি কেবল একটি বৃক্ষ নয়, বরং এটি গ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৃদ্ধ সরোয়ারের মুখে ভেসে ওঠে শৈশবের মধুর স্মৃতি, যা আজও তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। গ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই তেঁতুলগাছের ছায়ায় তিনি অতিবাহিত করেছেন জীবনের অধিকাংশ সময়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই গাছের নিচে বসেই গ্রামের বৃদ্ধরা আলোচনা করেন, শিশুরা খেলার খেলায় মগ্ন থাকে এবং নারীরা তাদের দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেন। এই গাছের উপস্থিতি গ্রামের সামাজিক বন্ধনকে আরও মজবুত করেছে এবং এটি জগদীশপুরের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

জগদীশপুর গ্রামের ইতিহাস অনুসারে, এই তেঁতুলগাছটি শতাব্দী পূর্বে রোপণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। স্থানীয় ঐতিহাসিক ও বয়স্ক বাসিন্দাদের মতে, এই গাছটি গ্রামের প্রাচীনতম বৃক্ষগুলোর মধ্যে একটি। বৃদ্ধ সরোয়ার হাওলাদার জানান, তাঁর শৈশবের দিনগুলো এই গাছের চারপাশেই কাটত। তেঁতুলের ফল পড়ে যাওয়া মৌসুমে গ্রামের শিশুরা এই গাছের নিচে জড়ো হতো এবং তারা একে অপরের সাথে খেলাধুলায় মগ্ন থাকত। এই গাছের ছায়ায় গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হতো। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই গাছটি গ্রামের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। বৃদ্ধ সরোয়ারের মতে, এই গাছের উপস্থিতি তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সঙ্গী হয়ে থাকে এবং এটি তাঁর শৈশবের মধুর স্মৃতিগুলোকে জীবন্ত রাখে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই তেঁতুলগাছের প্রতি গভীর আবেগ ও সম্মান প্রদর্শন করেন। গ্রামের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-কিশোর সবাই এই গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বৃদ্ধ সরোয়ার হাওলাদারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই গাছের নিচে বসে তিনি তাঁর শৈশবের দিনগুলোকে স্মরণ করেন এবং সে সময়ের মধুর অভিজ্ঞতাগুলোকে মনে করেন। স্থানীয়রা জানান, এই গাছের উপস্থিতি গ্রামের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তেঁতুলের ফল গ্রামের শিশুদের পুষ্টিগত প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করে এবং গাছের ছায়া গ্রীষ্মের তীব্র তাপমাত্রা থেকে রক্ষা দেয়। বৃদ্ধ সরোয়ারের মতে, এই গাছটি কেবল একটি বৃক্ষ নয়, বরং এটি গ্রামের মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি তাঁদের শৈশবের মধুর স্মৃতিগুলোকে জীবন্ত রাখে।

কর্তৃপক্ষ এই প্রাচীন তেঁতুলগাছের সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলো এই গাছের সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বৃদ্ধ সরোয়ার হাওলাদারের মতে, এই গাছের সংরক্ষণ গ্রামের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যু রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে এই গাছটি গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই গাছের চারপাশে একটি ছোট্ট পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য আরও আরামদায়ক বিশ্রামের স্থান হিসেবে কাজ করবে। বৃদ্ধ সরোয়ারের মতে, এই গাছের সংরক্ষণ গ্রামের মানুষের জন্য একটি গর্বের বিষয় এবং এটি তাঁদের শৈশবের মধুর স্মৃতিগুলোকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে।

© 2026 Voice of Chittagong. All rights reserved.